সুবর্ণচরে ফসলি জমিতে একের পর এক গড়ে উঠছে ইটভাটা

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল::


নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ফসলি জমিতে একের পর এক গড়ে উঠছে ইটভাটা। সরকারি অনুমতি ছাড়া একটি ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে নয়টি ইটভাটা। ফলে এলাকায় ফসলি জমি কমছে।

উপজেলার চর আমানুল্যাহ ইউনিয়নের সাতাশদ্রোন গ্রামে আরও দুটি নতুন ইটভাটা । ইটভাটা দুটি আবুল কাশেম ওরফে আড়তদ্বার কাশেমের বলে জানা গেছে। তার একার চারটি ইটভাটা রয়েছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, ইটভাটা থেকে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের কারণে আশপাশের জমিতে ফসল উৎপাদন কমতে থাকে, উপকারী পোকা-মাকড়ের মৃত্যু হয়। বনায়ন ধংস হয়। মানুষের শ্বাসরোগ ও চর্মরোগ দেখা দেয়। ভাটা এলাকায় সব সময় তাপমাত্রা বেশি থাকে।
নতুন ভাটা স্থাপনের কাজে ট্রাক্টরে মালামাল আনা-নেওয়ার কারণে সড়কগুলো ভেঙে যাচ্ছে। দরবেশ বাজার রাস্তার মাথা-দাশেরহাট সড়কটিতে ইতিমধ্যে ভাঙন ধরেছে। নির্মাণাধীন ইটভাটার উত্তরে দরবেশ বাজার রাস্তার মাথায় দুই বছর আগে আরও একটি ইটভাটা স্থাপন করেন স্থানীয় কাশেম। ওই ইটভাটার চারপাশে কৃষিজমি, অসংখ্য বসতিঘর ও হাটবাজার রয়েছে। তিনদিক ঘেঁষে রয়েছে এলজিইডির সড়ক, সড়কের পাশে সামাজিক বন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। সামাজিক বনায়ন ও বিভিন্ন বাড়ির ফলদ-বনজ গাছপালাগুলোর পাতা হলুদ হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ভাটার ছাঁই খালে ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

বৈরাগীর বাজার-কচ্ছপিয়া সড়কে নতুন ইটভাটা স্থাপন করছেন জেলা শহরের দত্তেরহাট এলাকার মো. আলমগীর হোসেন। ওই ভাটার চারপাশেও কৃষিজমি, এলজিইডির পাকা সড়ক, সামাজিক বন ও জনবসতি রয়েছে। খলিল কোম্পানি ও ব্যবসায়ী মান্নান মিয়া ওই এলাকায় আরেকটি ইটভাটা করছেন। চর আমানুল্যাপুর ইউনিয়নেই সাতটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা ব্রিক ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি ইসমাইল মিয়া জানান, সুবর্ণচরে কোনো অবৈধ ইটভাটা আছে বলে তার জানা নেই। ইটভাটা নির্মাণ নীতিমালা সংশোধনের দাবি করে তিনি বলেন, ইটভাটার কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হতেই পারে, এসব অবার মেরামত করতে হবে। ইটভাটা থেকে সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব পেয়ে থাকে। যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের করের আওতায় আনা হোক।

চর আমানুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন জানান, এলাকার ব্যবসায়ীরা কেউ কেউ তাদের ফার্মের নামে ব্যবসার লাইসেন্স (ট্রেড লাইসেন্স) নিয়েছেন। এরা কেউ ইটভাটার অনুমতি নিয়েছে কি-না তিনি তা জানেন না।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচরে আইডা এবং আমানত ব্রিকস ছাড়া বাকি সব ইটভাটা অবৈধ। অন্য ইটভাটাগুলো অনুমতির জন্য আবেদনও করেনি।

ইটভাটা স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। ইটভাটার এক বর্গকিলোমিটারের মধ্যে সামাজিক বনায়ন, জনবসতি, কৃষিজমি, পৌরশহর, উপজেলা সদরদপ্তর ও স্কুল-কলেজ থাকলে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ ছাড়া নির্ধারিত স্থানের অর্ধ কিলোমিটারের মধ্যে এলজিইডির কোনো সড়ক থাকলেও ইটভাটার ছাড়পত্র দেয়া হয় না।

চর ওয়াপদা ইউনিয়নে আইডা, আমানত ও প্যাসিফিক নামের ৩টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটা পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে স্থাপন করা হয়েছে এবং অনুমোদন আছে বলে সংশ্নিষ্টরা জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক মিঞা বলেন, সুবর্ণচরের নতুন ইটভাটা নির্মাণের বিষয়ে সঠিক তথ্য নশ্চিত হয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএসএম ইবনুল হাসান ইভেন বলেন, তিনি শুনেছেন উপজেলায় ৬-৭টি ইটভাটা রয়েছে। বিস্তারিত খবর নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ