সুবর্ণচরে বন্যা শেষে ভেসে উঠছে ক্ষত আর ক্ষত

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল:


সম্প্রতি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় তলিয়ে গেছে আমন ধানসহ সকল ধরনের সবজিক্ষেত। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ধানের বীজতলা ও রোপন করা চারা পানিতে তলিয়ে প্রায় ৩৬ হাজার কৃষক পরিবারের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। ভেঙ্গেছে সড়কের পলেস্তা ও কার্পেট। বৃষ্টি ও বন্যা শেষে ক্ষতচিহ্ন সুবর্ণচর জুড়ে ভেসে উঠেছে ।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সুবর্ণচরের ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে নয়টিই ইউনিয়নের রোপা আমন ধান পানির তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে সব রোপা আমন ধান ও বীজতলা। তিন ইউনিয়নের সবজি ডুবে গেছে । নষ্ট হয়েছে আগাম সকল সবজি। গতদুই সপ্তাহে বন্যার পানিতে তলিয়েছে অন্তত ১৯শ ৭৫ হেক্টর জমির ধানের চারা। বন্যায় ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। সুবর্ণচরের কিছু এলাকায় সার্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়েছিল সেগুলোও এখন সব নষ্ট হয়ে গেছে।

চরবাটা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহাম্মদ মুছা মিয়া জানান, অনেক টাকা খরচ করে ধান লাগানোর পর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা শেষে তার সব ধানের চারা জমিনে মিশে গিয়েছে। একই ইউনিয়নের ইউনুস জানান, ৪০ একর জমিতে আমন রোপনের পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে তলিয়ে গেছে। প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার।

এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আমনের চারা রোপণ করেন পূর্ব চরবাটা গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন। তারও সব অতিবৃষ্টিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। ২০ একর জমিতে ধান লাগাতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে তার। চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের কৃষক ইব্রাহীম জানান, তারা বিশেষত আমন ধান চাষ করে সংসার পরিচালিত করেন। এবং তাদের এলাকায় প্রায় বীজতলা পানির নিচে থেকে নষ্ট হয়েছে। পচে গেছে সবগুলো চারা। এতে ব্যাহত হয়েছে আমন চাষ। অনাবাদি পড়ে থাকবে অধিকাংশ জমি।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, নদীর সাথে সংযোগ খালগুলোতে বাঁধ নির্মাণ কারায় খাল দিয়ে ঠিকমত পানি সরেনি। তাই এ অঞ্চলের কৃষকদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় নোয়াখালী উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সহযোগিতায় নব প্রত্যয় যুব সংগঠনের সদস্যরা একাধিক কর্মী নিয়ে সুবর্ণচরের খালগুলো পরিস্কার করা হয়। খাল পরিস্কার করলেও বাঁচাতে পারেনি কৃষকের স্বপ্ন।
উপজেলার একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে এবং তা বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার অন্যান্য আধাপাকা রাস্তাগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের (কাজীর দোকান) চরনঙ্গলীয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম এর দুইটি পুকুরের মধ্যে একটি তলিয়ে গেছে। এতে রুই, সিলভার কার্প, ট্যাংরাসহ সাত প্রজাতির মাছে পৌনা ছিল। তাঁর দাবি, বৃষ্টি আর বন্যায় এক রাতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলায় ৩৬ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষাবাদ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১০ হাজার হেক্টর ধান রোপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বন্যায় নষ্ট হওয়ার পথে। ১৯শ ৭৫ হেক্টরের বীজতলা পানিতে নষ্ট হয়েছে। এ ধান পানির নিচে চার-পাঁচ দিন টিকতে পারে। তিনি আরো জানিয়েছেন, বীজের অভাবে এবারে অনেক জমি খালি পড়ে থাকবে। তাছাড়া আমন ধান রোপনের একটি নির্ধারিত সময় থাকে সেটিও পার হয়ে যাচ্ছে। ফলে এসব অঞ্চলে গোখাদ্যের সংকট দেখা দিবে।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, এরকম বন্যা এ এলাকার মানুষ পূর্বে দেখেনি। এ বন্যা ও অতিবৃষ্টি সুবর্ণচরের আমন ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বন্যার পানি নিস্কাশনের জন্য এলাকার খালগুলো পরিস্কার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

Subarnasomoytv

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ