সুবর্ণচরে বসত ঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ, এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি
সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে রাতের আধাঁরে পুর্ব শত্রুতার জেরে বসত ঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামে স্থানীয় নুরনবী চৌধুরী ওরফে নোব্ব্যা চোরার বসত বাড়িতে এ আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। ওই বাড়িতে রাতে কোন লোকজন থাকেন না বলেও জানান স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে আগুনের ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে ।
চরক্লার্ক ৮নং ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দা বলেন, শেখ ফরিদ ওরফে ফরিদ সর্দারকে হত্যার পরে নুরনবী ওরফে নোব্ব্যা চোরার ছেলেদেরকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর আসামীরা পলাতক রয়েছে। ওই বাড়িতে দিনের বেলায় লোকজন থাকলে ও রাতে কেউ থাকে না । রান্না বান্না ও হয়না। রাতের বেলায় নিজেদের মধ্যে কেউ আগুন ধরিয়ে প্রতি পক্ষকে ফাঁসাতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।
নুরনবী চৌধুরী স্ত্রীর মিনারা বেগম জানান, স্থানীয় ফরিদ কমান্ডারের ছেলে বোরহান উদ্দিনের সাথে পুর্ব শত্রুতা রয়েছে। এর জেরে রাতের আঁধারে তাদের বসত ঘরে আগুন ধরিয়ে দিতে পারেন।
তিন বছর আগে বোরহান বাহিনীর নেতৃত্বে তার স্বামীকে এ বসত ঘরেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এবিষয়ে মামলা করা হলে আসামীরা নুরনবীর স্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নানান সময় হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। ঘটনার আগের দিন বুধবার রাতেও তারা বাড়িতে হামলা করে। এসময় নুরনবীর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেলে অভিযুক্তরা বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বসত ঘরে আগুন দেয়। এসময় নুরনবীর স্ত্রী কমান্ডার বাহিনীর সদস্যদের দেখতে পেলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
মিনারা বেগম বলেন, বসত ঘরের আগুনে তাদের সকল আসবাবপত্রসহ প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি স্থানীয় সাংসদসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত বোরহান উদ্দিন জানান, সম্প্রতি নুরনবীর ছেলেরা দিনের বেলায় প্রকাশ্যে তার বাবা শেখ ফরিদ ওরফে ফরিদ সর্দারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। নুরনবীর ছেলেদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করায় তারা তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য নিজেদের ঘরের আসবাবপত্র সরিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।
বোরহান উদ্দিন বলেন, রাতে নুরনবীর বাড়িতে কেউ থাকে না, রাতে তাঁর স্ত্রী লোকজনকে দেখতে পাওয়া মানে হচ্ছে তাঁর বাবা হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য তারা নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন দেন। ঘটনার সাথে তারা জড়িত নন বলেও জানান।
এবিষয়ে চরক্লার্ক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আবুল বাসার ডিপটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনায় কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



Post Comment