সুবর্ণচরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রেমিকার অনশন
প্রতিনিধি, সুবর্ণচর (নোয়াখালী)::
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করেছে এক কিশোরী প্রেমিকা (১৭)। দিনভর নানান নাটকীয়তা শেষে রাতে মেয়েটি বাড়ি ফিরে যায়। তবে এ ঘটনার সময় পলাতক ছিলেন প্রেমিক আলাউদ্দিন।
রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের উরিরচর গ্রামের নুর ইসলামের বাড়ীতে অনশন করেন কিশোরী। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শতশত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন প্রেমিক আলা উদ্দিনের বাড়ীতে।
আর কিশোরীর বাড়ি চাঁদপুর হাজিগঞ্জের মোহাম্মদপুর গ্রামে।
অভিযুক্ত প্রেমিক আলা উদ্দিন (২১) উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের উরিরচর গ্রামের নুর ইসলামের পুত্র।
কিশোরী অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের শেষের দিকে আলা উদ্দিন চাঁদপুর হাজিগঞ্জের মোহাম্মদপুর গ্রামে তাদের পাশের বাড়ীতে টিউবওয়েল বসানোর কাজ করে। ওই বাড়িতে প্রাইভেট পড়ার সুবাধে আলা উদ্দিন প্রায় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। পরে দীর্ঘ দিন ফোনে কথা বলার পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় চাঁদপুরের কয়েকটি হোটেলে নিয়ে একাধিকবার তাকে শারিরীক সম্পর্ক করে।
মেয়েটি অভিযোগ,আলা উদ্দিনকে তার পরিবার লুকিয়ে রেখেছে। তারা যদি আলা উদ্দিনকে এনে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না করে তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।
কিশোরী বলেন, গেল সপ্তাহে আমি জানতে পারি আলা উদ্দিনের সাথে তার খালাতো বোনের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। এনিয়ে আমি আলা উদ্দিনের বাড়ীতে এসে অবস্থান নিলে তার পরিবারের সদস্যরা আমাকে গালমন্দ করে বের করে দেয়। আলা উদ্দিন তার ব্যবহৃত মোবাইল মুঠোফোনটি বন্ধ করে রেখেছেন। উপায় না দেখে আমি তার বাড়িতে অবস্থান করি।
কিশোরী আরো বলেন,এখন আলা উদ্দিনের বাবা—মা তাকে মেনে নিতে রাজি নন। পরে কিশোলীর বাবাসহ স্থানীয় চরক্লার্ক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল বাসারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করলে ছেলে লুকিয়ে থাকায় চেয়ারম্যান ছেলেকে হাজির করবে মর্মে উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুছলেকা নেন এবং এক মাসের সময় নেন। এরপর কিশোরী বাড়ি ফিরে যান।
তবে, অভিযুক্ত আলা উদ্দিনের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়।
চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক তরিক খন্দকার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Post Comment