সুবর্ণচরে মাদরাসার ছাত্রী ধর্ষণ; ধর্ষকের মা গ্রেফতার
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সূবর্ণচরে এক মাদরাসার ছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধর্ষকের মা আমেনা বেগমকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে গ্রেফতার আমেনা বেগমকে আদালতে সোপর্দ এবং ভুক্তভোগী মাদরাসা ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ওই মাদরাসার ছাত্রীর বড়বোন (২৪) বাদি হয়ে চারজনকে আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মামুনের মা আমেনা বেগমকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার আমেনা বেগম চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের আবদুর রশিদের স্ত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী (১৬) চরক্লার্ক বাংলা বাজার দাখিল মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে চরক্লার্ক গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে আসামি মো. মামুন প্রেম নিবেদন করতো। এক পর্যায়ের গত দুই বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসামিদের সহযোগিতায় মামুন ওই ছাত্রীকে একাধিক বার ধর্ষণ করেন। গত ৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ১১টায় বিয়ের কথাবার্তা বলার জন্য ডেকে পুকুর পাড়ে নিয়ে মামুন পুনরায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় ছাত্রীর চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে গেলে মামুন পালিয়ে যায়।
মামলার বাদিনি জানান, ঘটনাটি মামুনের পরিবারকে জানালে তার মা আমেনা বেগমসহ তাদের সহযোগি দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে মো. ইব্রাহিম খলিল (৩০) ও পূর্ব চরবাটা গ্রামের বাহার মাস্টারের ছেলে মো. সোহেল (২৬) বিয়ে করানোর আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করে মামলার আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্নভাবে ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগির পরিবার চর জব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
সুবর্ণচরের চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবপ্রিয় দাশ মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি দুপুরে নিশ্চিত করে বলেন,“রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভূক্ত ৩ নম্বর আসামী এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার নম্বর-৭। এজাহারভূক্ত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



Post Comment