সুবর্ণচরে মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
বিশেষ প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজুবিলী গ্রামে, স্কুল/কলেজ রোড়ে মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা উপেক্ষা করে গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খামারটি স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে গ্রামবাসী।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে পশ্চিম চরজুবিলী গ্রামের চরজব্বার ডিগ্রী কলেজ, শহীদ জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয় ও দক্ষিণ চরজব্বার সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় রোড়ের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় লেয়ার মুরগির খামার স্থাপন করেন হাজী আমিনুল হক। বর্তমানে খামারে প্রায় আট/দশ হাজার মুরগি রয়েছে। মুরগির বিষ্ঠার কারণে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে খামারের চারদিকে মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মুরগির খামার স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনগণের ক্ষতি হয় এমন স্থানে খামার স্থাপন করা যাবে না।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারটির আশপাশে মুরগির বিষ্ঠা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। চারপাশের ঘের খোলা। খামারের চারপাশে বসতবাড়ি। এসব বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
খামার থেকে কিছুটা দূরে উপজেলার সবচেয়ে বড় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো-চরজব্বার ডিগ্রী কলেজ ও শহীদ জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ চরজব্বার সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় । এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসায় ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গ্রামের বাসিন্দা জিসান রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ির চলাচলের পাশেই খামার। বিষ্ঠা থেকে সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। আশপাশে বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’
কলেজছাত্র জামাল উদ্দিন বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে খামারটি সরানোর জন্য গত বছরের আগষ্ট মাসে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েছিল গ্রামবাসী। তিনি তখন নতুন চেয়ারম্যান হওয়ায় ব্যবস্থা নেননি। পরে নভেম্বর মাসে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়।
তবে শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে খামার মালিক আমিনুল হককে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর বড় ছেলে আজিজুল হক বলেন, খামারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে যাতে দুর্গন্ধ কম ছড়ায়।
ইউএনও আল আমিন সরকার বলেন, কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি করলে খামারটি সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হবে।। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, নীতিমালা উপেক্ষা করে খামার স্থাপন করা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




Post Comment