সুবর্ণচরে সড়ক খানাখন্দ ও ভেঙ্গে চলাচল ব্যহত, জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে
আবদুল মালেক শাওন,সুবর্ণচর,নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুরের মোস্তান নগর— এসহাক মুন্সীর হাট— মন্তাজখালী সড়কটির খানাখন্দ ও ভেঙে পড়া অংশ সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও জনসাধারণ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সরেজমিনে দেখা যায়, মোহাম্মদপুরের মোস্তান নগর—মন্তাজখালীর বাঘ মার্কেট হয়ে তাহের সড়কটির বেশির ভাগ অংশেই কার্পেটিং উঠে মাটি সরে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে চরক্লার্কের এসহাকমুন্সীর হাটের সাথে সংযোগ মোহাম্মদপুরের বোয়ালখালী সড়ক এলাকায় সড়ক ভেঙে পড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই স্থানটি দিয়ে ছোট—বড় যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশ—পঁচিশ বছর আগে মেঘনার মোহনা থেকে জেগে উঠা এই চরে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সড়কগুলো চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প (সিডিএসপি)অধীনে দেখভাল করতো। এরপর ২০১২ সালের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রথম সড়কটি পাকা করা হয়। এরপর একাধিকবার কার্পেটিং বসিয়ে সংস্কারও করা হয়। কিন্তু সংস্কার মানসম্মত না হওয়ায় এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সড়কটি দিয়ে এখন ছোটবড় যানবাহনে এবং হেঁটে চলাচলও দুরূহ হয়ে পড়েছে। মন্তাজখালী এলাকার ভ্যানচালক আবুল বাশার বলেন, স্থানীয় বাঘ মার্কেট থেকে মন্তাজখালী এলাকায় সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, রাস্তার পাশের মাটি ক্ষয়ে খালে পড়েছে। কিন্তু কেউ তা মেরামতে এগিয়ে আসেনি। তিনি নিজেই গরুর ঘাস নিয়ে ওই ভাঙা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানসহ উল্টে পড়েন।
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন নোয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী বাবলু বলেন, মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্কে উৎপাদিত সবজি পুরো নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। উড়িরচরের সাথে সুবর্ণচরের পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে আক্তার মিয়ার হাট, থানার হাট, বোয়ালখালী, চরবাটা খাসেরহাট,চরজুবিলী ইউনিয়নে যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কটি দিয়ে চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উপজেলা সদরে আনা হয়। কিন্তু সড়কের দুরবস্থার কারণে কৃষককে পণ্য বাজারে আনতে গিয়ে যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। বড় গাড়িগুলো মোকামে প্রবেশ করেতে না পারায় ছোট ছোট ভ্যানগুলোর মাধ্যমে বেশি ভাড়া দিয়ে পণ্য আনা নেয়া করতে হয়। তাই কৃষকের স্বার্থেও সড়কটির সংস্কার জরুরি।
সৈকত সরকারী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শাহদাত হোসেন বলেন, একটি কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে খানাখন্দ ও বেহাল সড়কে প্রায় দূঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। সড়কটির বেহাল হওয়ার কারণে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।
ব্যাটারী ইজিবাইক—চালক জসিম উদ্দিন বলেন, সড়কটির ভাঙ্গাচোরা খানাখন্দ দিয়ে মালামাল পরিবহন ও যাত্রী পারাপার করতে গিয়ে ঘন ঘন বাইকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে বাইক চালিয়ে যে আয় রোজগার হয়, তার বেশির ভাগই চলে যায় বাইক ঠিক করতে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুবর্ণচর উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে দশটি রাস্তা অনুমোদন হয়েছে। বাকী গুলোর প্রকল্প (স্কিম)আকারে তৈরি করে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে এলে কাজ শুরু হবে।



Post Comment