বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস: জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ি বাঁধ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী

নোয়াখালী প্রতিনিধি ::


নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ভুলুয়া নদীর পাশ^বর্তী বেড়ি বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছে ০৫নং চরজুবিলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্থ দক্ষিণ চর বাগ্যা ও মধ্যম বাগ্যা এলাকা পরিদর্শন করে সাপোর্ট বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

গরিব অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়ার জন্য মেম্বারদের জরুরী ভিত্তিতে তালিকা জমা দেওয়ার জন্য বলেন এবং হানিফ চেয়ারম্যান বাজার থেকে ২৫ নং দিঘির রাস্তার মাথা পর্যন্ত ১ কিঃ মিঃ অধিক রাস্তা বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এলজিএসপি থেকে বরাদ্দ দেন। রবিবার থেকে কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন।

এর আগেও ভরা কাটালের সময় জোয়ারের লোনা পানি ডুকে ক্ষতি হয়েছে চরজুবিলী ইউনিয়নের দু’টি গ্রামের ফসলি জমি। সেসময় জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়েছে প্রায় এক শত একর জমির রবিশস্য তরমুজ, ঢেঁড়স, সয়াবিন, মরিচ, আলু, ডাল। এতে ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

মধ্যম ও দক্ষিণ চর ব্যা¹া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মধ্যবতীর্ সীমানায় ভুলুয়া নদী। উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজনের সুবিধার কথা চিন্তা করে ১৯৮৬ সালে চর ব্যা¹া গ্রামে ভুলুয়া নদীর পাড়ে বেড়ি বাঁধ নির্মান করা হয়। বিভিন্ন সময় বন্যা ও প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাসের সময় ক্ষতিগ্রস্থ হয় বাঁধটি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের দিকে তা মেরামত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষের দিকে ও ২০১৮ সালের প্রচন্ডভাবে ভাঙতে শুরু করে বেড়ি বাঁধটি। গত তিন বছর বাঁধের ভাঙাংশ দিয়ে আশপাশের বাড়ী ঘর, মাছের খামার ও ফসলি জমিতে ডুকে পড়ে নদীর লবণাক্ত পানি। আর চলতি বছরে ভরা কাটাল অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় প্রচন্ড জোয়ারে বেড়ি বাঁধের অন্তত ৩শ মিটার ভেঙে গিয়ে ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি ডুকতে শুরু করে। আর এ জোয়ারের পানিতে গত মার্চ থেকে প্রতি বারো ঘন্টায় এক বার জমিগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এতে দুই তিন ঘন্টা স্থায়ীভাবে কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকার পর ক্ষেতে থাকা ফসল নিয়ে নদীতে নেমে যাচ্ছে জোয়ারের পানি। বেড়ি বাঁধ মেরামত না করায় শুকনো মৌসুমে যে পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছে তা সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় কিংবা বর্ষায় আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশংকা করছে স্থানীয় এই বাসিন্দারা।

সুবর্ণচর পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী বাবলু বলেন,লোনা জোয়ার আতংক থাকে এ অঞ্চলের মানুষ। ভরা কাটাল কিংবা অমাবস্যা ও পূণিমার সময় জোয়ারের পানি ডুকে ফসলি জমি ,মাছের ঘেরসহ বাড়ি ঘর ডুবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষকেরা। বাঁধটি স্থায়ী ভাবে নির্মাণ করা হলে সুবর্ণচরের পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দুঃখ লাগব হবে।

সমাজপ্রতি ডা. ওজি উল্যাহ জানান, গত কয়েক বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার এলাকা ছেড়ে অনত্রে চলে গেছেন। এখনও ভাঙন হুমকিতে রয়েছেন কয়েকশ পরিবার । জোয়ারের পানিতে ৫—৬ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায় এ এলাকা। ফসলি জমির পাশাপাশি জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে পানের ভরত, দোকান—পাট, মাছের প্রজেক্ট ও বসত ঘরে ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।

চরজুবিলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জননেতা মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্থ দক্ষিণ চর বাগ্যা ও মধ্যম বাগ্যা এলাকা পরিদর্শন করে জোয়ারের পানিতে ভেঙ্গে যাওয়া ছোট ছোট রাস্তা ঘাটসহ সাপোর্টর্ বেড়িবাঁধ নির্মানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভরা বর্ষার আগে রাস্তাঘাট গুলো মেরামত করে দিলে বড় ধরনের ক্ষতির থেকে রক্ষা পাবে। মুলত বেড়ি বাঁধটি না থাকায় বার বার এ অঞ্চলের লোকজন ভাঙনের কবলে পড়ছে। মুল ক্ষতিগ্রস্থ ৩শ মিটার বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য ঠিকাদারকে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছি শীঘ্রই কাজটি শুরু করবে বলে তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, ব্যা¹া গ্রামের ভুলুয়া নদীর পাড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ি বাঁধটির মেরামতের জন্য সিডিএসপি আওতায় ৫ কোটি ৬০লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ ৩শ মিটার মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

 

 

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ