সুবর্ণচরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় জনদুভোর্গ চরমে
মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল :
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার আটকপালিয়া—পরিস্কার বাজার—একরাম নগর সড়কটির খানাখন্দ ও ভেঙে পড়া অংশ সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আটকপালিয়া—পরিস্কার বাজার—পাংকার বাজার—একরাম নগর সড়কটির বেশির ভাগ অংশেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে চরজব্বার নিজেরাকরি এলাকায় সড়ক ভেঙে পড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই স্থানটি দিয়ে ছোট—বড় যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০২ সালের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রথম সড়কটি পাকা করা হয়। এরপর একাধিকবার সংস্কারও করা হয়। কিন্তু সংস্কার মানসম্মত না হওয়ায় এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সড়কটি দিয়ে এখন যানবাহনে এবং হেঁটে চলাচলও দুরূহ হয়ে পড়েছে।
চরজব্বার পরিস্কার বাজার এলাকার ভ্যানচালক মো. আবু সালে বলেন, স্থানীয় পরিস্কার বাজার এলাকায় সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, রাস্তার উপর নির্মিত ব্রীজটি পাশের মাটি ক্ষয়ে খালে পড়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু কেউ তা মেরামতে এগিয়ে আসেনি। কয়েক দিন আগে তিনি নিজেও ধান নিয়ে ওই ভাঙা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানসহ উল্টে পড়েন।
পাংকার বাজার জুনিয়র স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবুল আহমেদ বলেন, লক্ষীপুরের রামগতির সাথে সুবর্ণচরের পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে পাংকার বাজার ,আটকপালিয়া, চরজব্বার ,চরজুবিলী ইউনিয়নে যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কটি দিয়ে চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উপজেলা সদরে আনা হয়। কিন্তু সড়কের দুরবস্থার কারণে কৃষককে পণ্য বাজারে আনতে গিয়ে যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। তাই কৃষকের স্বার্থেও সড়কটির সংস্কার জরুরি।
ইজিবাইক—চালক মাইন উদ্দিন বলেন, সড়কটির খানাখন্দ দিয়ে যাত্রী পারাপার করতে গিয়ে ঘন ঘন বাইকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে বাইক চালিয়ে যে টাকা লাভ হয়, তার বেশির ভাগই চলে যায় রক্ষণাবেক্ষণে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুবর্ণচর উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য একাধিকার প্রকল্প (স্কিম) তৈরি করে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে এলে কাজ শুরু হবে।



Post Comment