চেয়ারম্যান ঘাট-সোনাপুর রুটে বিআরটিসির বাস চালুর বার ঘণ্টার পর বন্ধ
সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
ব্যাপক প্রয়োজনের তাগিদে সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কপথে বিআরটিসির দ্বিতল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের বাধার মুখে চালু হওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হয়েছে বহু প্রত্যাশিত এই বাস সার্ভিস।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চালু হয়ে বুধবার সকাল ১১টায় বন্ধ হয়ে যায় বিআরটিসির বাস চলাচল।
জানা যায়, চেয়ারম্যানঘাট থেকে জেলা সদর সোনাপুরের দূরত্ব মাত্র ৪৫ কিলোমিটার। এই সড়কপথে চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য ভালো মানের কোনো বাস বা গেটলক সার্ভিস নেই। দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীরা গেটলক বাসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন। অবশেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে এই সড়কে বিআরটিসির ২টি দ্বিতল বাস সার্ভিস চালু করা হয়।
জেলা সদরের সোনাপুর শহর এলাকা থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে এক ঘণ্টা পরপর বাস ছেড়ে যাওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট ভাড়া ধরা হয়েছে ৪০ টাকা এবং সোনাপুর থেকে আটকপালিয়ার বাজার ২০ টাকা। একই সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা গনের জন্য ভাড়া ফ্রি করা হয়।
সোনাপুর বিআরটিসি বাস ডিপো কার্যালয়ে ঘটা করে সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দীন জেহান,শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দিনই সোনাপুরে সুবর্ণ সুপার সার্ভিস পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের বাধার মুখে বন্ধ করে দিতে হয়েছে বিআরটিসি বাস সার্ভিস।
এর প্রতিবাদে আগামীকাল ১ জুলাই বেলা ১১টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার হারিছ চৌধুরীর বাজার প্রধান সড়কে অবরোধের ডাক দেন স্থানীয়রা।

এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেবেন বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী ।
সুবর্ণচরের বাসিন্দা আশরাফুল বলেন, জেলা শহর মাইজদী থেকে চেয়ারম্যানঘাট চলাচলের কোনো ভালো যানবাহন নেই। শহরের সোনাপুর এলাকার বাস ডিপো থেকে যে বাসগুলো সুবর্ণচর রুটে চলাচল করে, তা খুবই পুরোনো ও নিম্নমানের। বেশির ভাগ বাসের ফিটনেসই নেই। চালকেরাও অদক্ষ। কোনো গেটলক সার্ভিস নেই। অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৮০ থেকে ১০০ টাকায় চলাচল করেন।
তিনি বলেন, আজকের মধ্যে (৩১ জুলাই) বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে তাঁরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিআরটিসির বাস চলতে না দেওয়া হলে এই সড়কে মালিক সমিতির কোনো বাস চলতে দেবেন না।
জানতে চাইলে সোনাপুর সুপার বাস পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো.সামছুদ দাবি করেন, ‘আমরা পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিকেরা বিআরটিসির কোনো বাস বাধা দিইনি। সরকারি গাড়ি চলাচল ও সিদ্ধান্তে আমাদের বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের সংগঠনে ১১৭ টি গাড়ি রয়েছে, এর সঙ্গে রয়েছে ২০০০ হাজারের অধিক মালিক শ্রমিক। কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করা ছাড়াই গাড়ি চলাচলের অনুমোদন দেয়, এতে করে চালক ও শ্রমিকের রিজিকের উপর আঘাত করেছে তাই সিএনজি ও বাস মালিক সমিতির চালক এবং শ্রমিকেরা মিলে বাস চলাচলে বাঁধা দিয়েছেন।
সোহেল বলেন, এ রুটে বর্তমানে ২০-২৫টি বাস চালু রয়েছে। পর্যাপ্ত বাস চালু থাকা স্বতেও তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে বিআরটিসি বাস চালু করায় লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের। শুধু বাস মালিকরাই নয়, এখানে সিএনজি ও বাসের দুই হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তাই শ্রমিকরা বিআরটিসির বাস সার্ভিসে বাধা দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সোনাপুর-চেয়ারম্যান ঘাট ৪৫ কিলোমিটার পথে সরকারি ভাড়া ৯২ টাকা নির্ধারণ করা হলেও আমাদের সমিতিভুক্ত বাস ভাড়া দিতে হয় ৬০ টাকা।
বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যায়। ফলে যাত্রীরা যথা সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
সূত্র জানায়, উদ্বোধনের পর দিন দুটি বাস চালু করা হয় সোনাপুর-চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত। বাস দুটির মধ্যে একটি সোনাপুর বিআরটিসি ডিপো থেকে বের হয়ে সোনাপুর জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত গেলেই সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও বাস মিনিবাস মালিক সমিতির শ্রমিকদের তোপের মুখে পড়ে। কোনোভাবে সোনাপুর থেকে চরজব্বার পর্যন্ত গেলে সেখানে শ্রমিকরা বাধায় দেয়, বাধা ঠেলে একবার গেলেও ওই দিনই বাধ্য হয়ে বাস সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে বিআরটিসি সোনাপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার মো. রাজু মোল্লা বলেন, সোনাপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির লোকজনের বাধার মুখে নিরাপত্তার সার্থে নতুন এ সার্ভিস বন্ধ করতে বাধ্য হন তারা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান বলেন, বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বসে এর সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি সার্ভিসে বাধা যারা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।



Post Comment