আবুল কালাম খাজা বৃদ্ধ বয়সেও সংস্কৃতিতে তরুণ
সাংস্কৃতিক মঞ্চের এক নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক
শৈশব থেকেই সাংস্কৃতিক মননের মানুষ ছিলেন আবুল কালাম খাজা। মনের কোণে সবসময়ই লালন করতেন অভিনয়ের স্বপ্ন। নাটক-সিনেমায় কাজ করার তীব্র ইচ্ছা ছিল, কিন্তু জীবনের বাস্তবতায়—পরিবারের দায়িত্ব, কর্মজীবনের টানাপোড়েন—সে স্বপ্ন এক সময় হারিয়ে যেতে বসেছিল। তবে সে স্বপ্নের প্রদীপ আবার জ্বলে ওঠে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে।
২০১২ সালে ‘সুবর্ণ নাট্যদল’ প্রতিষ্ঠার পর তাদের প্রথম নাটক ‘হাড়ারী ভাই’ ও ‘বর্ণহীন ভালোবাসা’ ডিস ক্যাবলে প্রচার শুরু হলে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। নাটকগুলো সিডির দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় আবুল কালাম খাজার অভিনয়ের আগ্রহ নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়। সুবর্ণ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্মাতা জিসান রহমান-এর কাছে সরাসরি অভিনয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। গুণী নির্মাতাও হাত বাড়িয়ে দেন।
এরপর আবুল কালাম খাজা হয়ে ওঠেন সুবর্ণ নাট্যদলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। একের পর এক নাটকে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়ান। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে:
অতঃপর হাড়ারী ভাই, নির্বাচনে হাড়ারী, মেম্বার হাড়ারী ভাই, জগা ভাই, নয়া জবনা, ঠকবাজ, স্যান্ডেল, বাবাদের ঈদ, হিসেবী কিপ্টে ৮ – প্রতিটি নাটকেই তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় ছিল দর্শকের হৃদয় ছোঁয়ার মতো।

বর্তমানে বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন আবুল কালাম খাজা। দীর্ঘদিন ধরে নাট্যাঙ্গন থেকে দূরে রয়েছেন তিনি। সময় কাটছে কখনো নিজের বাড়িতে, কখনোবা চিকিৎসকের চেম্বারে। তার আর নতুন কোনো নাটকে দেখা যাচ্ছে না—এ অভাব অনুভব করছেন দর্শক ও নাট্যদলের সদস্যরা।
সুবর্ণ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্মাতা জিসান রহমান বলেন,
“আবুল কালাম খাজা জেঠা শুধু আমাদের দলের অভিনেতা নন, তিনি ছিলেন আমাদের প্রেরণা। উনার মতো নির্লোভ, নিষ্ঠাবান ও সংস্কৃতি প্রেমিক মানুষ এখন দুর্লভ। আমরা সবসময় তার ভালো থাকার জন্য দোয়া করি।”
সাংবাদিক ও অভিনেতা আহসান হাবিব বলেন,
“তিনি ছিলেন নাট্যদলের প্রাণ পুরুষ । তার অভিনয়ে ছিল এক সহজাত আবেগ। আমরা তার অভাব প্রতিদিনই অনুভব করি।”
সুবর্ণ নাট্যদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ আহম্মেদ বলেন,
“খাজা ভাইয়ের অবদান আমাদের দলের জন্য অতুলনীয়। তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা চিরকাল থাকবে।”

এই গুণী মানুষটি সবার ভালোবাসা ও দোয়া প্রত্যাশা করেছেন। আমরা সবাই মিলে চায়, আবুল কালাম খাজা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসেন—মঞ্চে, পর্দায়, আমাদের হৃদয়ে।




Post Comment