সংবাদ সন্মেলন ডেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামীলীগ: এমপি একরামুল করিমকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে চলার পরামর্শ
সুবর্ণচর(নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
দলের মন্ত্রীসংসদ সদস্যদের সন্তান, পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের উপজেলা ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তাৎক্ষণিক রাতেই প্রতিক্রিয়া জানাতে জরুরি বৈঠক করে সংবাদ সন্মেলন ডেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামীলীগ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় সুবর্ণচর প্রেসক্লাবে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সন্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দলীয় সিদ্ধান্তের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং তারা এমপি একরামুল করিমকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে চলার পরামর্শ দেন।
দেশের গণমাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার হলে আলোচনায় উঠে আসে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। কেননা এই উপজেলায় নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামীলীলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এএইচএম খায়রুর আনম চৌধুরী সেলিম ও বিভিন্ন্ সময় আলোচিত সমালোচিত নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, মরহুম স্পিকার আব্দ্লু মালেক উকিলের সন্তান, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামীলগের সভাপতি বাহার উদ্দিন খেলন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী, সুবর্ণচর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন চৌধুরী বাহার,চরজুবিলী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রহমত উল্যাহ সোহেল।
সংবাদ সম্মেলনে বাহার উদ্দিন খেলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই শীরধার্য্য তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি সময়উপযোগী। তার সিদ্ধান্তের বাহিরে যাওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নাই, যারা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তারা আওয়ামলীগের নেতা কর্মী হতে পারেনা।
তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে জননেত্রী শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে বলেছেন যদি ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে সংসদে না আসত তাহলে সংসদ অকার্যকর হয়ে যেতো এবং আমরা সরকার গঠন করতে পারতাম কিনা আমি জানিনা। আমরা আরো খেয়াল করেছি সারা দেশে যারা এমপি আছেন মন্ত্রী আছেন তাদের আরো চাই। তাদের ছেলে মেয়েকে, স্ত্রীকে ও তারা উপজেলার চেয়ারম্যান বানাতে চায়, তাদের এই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য সারাদেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু হয়েছে তার প্রমান কিছুদিন আগে আমরা সুবর্ণচরবাসী প্রত্যক্ষ করেছি আওয়ামিলীগের এক ত্যাগী নেতা প্রতিপক্ষের প্রার্থীকে নিয়ে ২/৪ টি কথা বলায় তার ওপর নৃশংস হামলা করা হয়েছে তিনি আধো বেঁচে ফিরবেন কিনা আমরা জানিনা। যদি কেউ শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অমান্য করেন ধরে নিতে হবে তিনি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলেন।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী বলেন, আমি মনে করি শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি দলের জন্য, দেশের জন্য, জনগণের জন্য একটি সময়পযোগী সিদ্ধান্ত, যারা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তাদের আওয়ামীলীগ করার কোন অধিকার থাকবেনা। আমরা দলের মধ্যে কোন বিশৃঙ্খলা চাইনা। উপস্থিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজ নিজ বিভাগের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরও কেউ ভোট থেকে সরে না দাঁড়ালে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদেরকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের প্রধানের নির্দেশনা পেয়ে ওবায়দুল কাদের আজ বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠক করেন। বৈঠকে এ ধরনের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয় এবং পরে তা সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।



Post Comment