করোলা চাষ করে সফল সুবর্ণচরের কৃষক জয়নাল আবেদীন সবুজ
সুবর্ণচর(নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের চর হাসান গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদিন সবুজ শীতকালীন সবজি করোলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে।
উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সম্প্রতি চর হাসান গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে সফল উদ্যোক্তা কৃষক জয়নাল আবেদিন সবুজের বিশাল করোলার খেত। তিনি একই গ্রামের কৃষক মো. ইসমাইল হোসেনের পুত্র।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদককে উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের চর হাসান গ্রামের জয়নাল আবেদিন সবুজ জানান করোলা চাষে স্বাবলম্বী হবার গল্প।
স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করে গ্রামের পাঠ শেষ করে শহরে গিয়ে স্নাতক শেষে শিক্ষক নিবন্ধন পাশ করে স্বপ্ন ছিল শিক্ষকতা করবেন জয়নাল আবেদিন সবুজ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে চাকরির সযোগ হয়নি। এক সময়ের বেকার সবুজের অধীনে এখন ডজন খানেক যুবকের কর্মসংস্থান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউব দেখে করোলা চাষ করে স্বাবলম্বী করেছেন পরিবারকে।
সবুজের কৃষক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, পাঁচ মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে যৌথ পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থা লেগেই আছে। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক নিবন্ধন পরিক্ষায় পাশ করেও রাজনৈতিক কারণে চাকরি না পেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন সবুজ। এতে সংসারের খরচ মেটাতে না পেরে নিজে উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব দেখে করোলা চাষের প্রতি আগ্রহী হোন। করোলা চাষে পরিবারে পক্ষ থেকে অসম্মতি থাকলেও প্রথম বছরেই স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কছে থেকে ধার করে ১লাখ টাকা পুঁজিতে চাষ শুরু করে তিন লাখ টাকা লাভ করে। এরপর লাভ দেখে আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। পরিবারের পুরো সমর্থনে ব্যাপক আকারে করোলার চাষ শুরু করে। তার এই চাষাবাদে আমরাও সহযোগিতা করি।
কৃষক জয়নাল আবেদিন সবুজ বলেন, মাদ্রাসা চাকরি ছেড়ে নিজের সবজি খামারে ডজন খানেক যুবককে চওড়া বেতনে চাকরি দিয়েছেন। করোলা চাষে লাভের টাকায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করে দোতলা বাড়ি করেছেন, ৫০ লাখ টাকায় তিন তলা দোকান ভিটে কিনেছেন, ৮০ শতাংশ জমি কিনেছেন ১৬ লাখ টাকায়, ১১টি গরুসহ দশ বছরে মোট ২ কোটিরও বেশি টাকার লাভবান হয়েছেন জয়নাল আবেদিন সবুজ। এছাড়াও পরিবারের সকল চাহিদা মেটাচ্ছেন করোলার লভ্যাংশ থেকে।
জয়নাল আবেদিন সবুজ আরো বলেন, এবছর তিনি ২৪০ শতাংশ জমিতে করোলার চাষ রয়েছে। এতে ৬ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এবছর করোলা বাজার দর ভালো পেয়েছেন । পৌষ মাসের প্রথম দিকে প্রতি কেজি ৬৫—৭০ টাকা বিক্রি করেন। বৈশাখ জ্যেষ্ঠ মাস পর্যন্ত ৪০ লক্ষ টাকার করোলা বিক্রি হবে বলেও তিনি জানান। তিনি নিজস্ব পরিবহনে নোয়াখালী ছাড়াও, কুমিল্লা, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সরবরাহ করেন।
চর হাসান গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, জয়নাল আবেদীন সবুজের করোলা চাষে সফলতা দেখে তিনি নিজেও ১২০ শতাংশ জমিতে করোলা চাষ করেছেন। কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেন।
সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হারুন অর রশীদ বলেন, জয়নাল আবেদিন সবুজ একজন সফল করোলা চাষী। তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে করোলা চাষ করেন। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় তিনগুন ফলন পান । শিক্ষিত যুবক হওয়ায় অল্প সময়ে সফলতা পেয়েছেন। তার মতে, এককভাবে এতোবড় করোলা চাষ বৃহত্তর নোয়াখালীতে নেই। জয়নাল আবেদিন সবুজকে উপজেলা কৃষি অফিসের সাধ্য অনুযায়ী সকল সহায়তা করা হবে।



Post Comment