সাড়ে ৪ হাজার পিস ট্যাবলেট উদ্ধার, জব্দ তৈরির সরঞ্জাম: গাজীপুরে বাসার ভিতর ইয়াবার কারখানা

গাজীপুরে বাসার ভিতর গড়ে তোলা ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও তৈরির যন্ত্রপাতি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৌহিদুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে। তিনি গাজীপুর চৌরাস্তা থানার বড়বাড়ী কাজীবাড়ী পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় টঙ্গী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী উপপরিদর্শক মো. আবু নাসের। ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। বড়বাড়ী এলাকার ২৪/এ নম্বর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আমরা রীতিমতো চমকে উঠি। কারণ সেটা শুধু ঘরই ছিল না, ছিল রীতিমতো ল্যাবরেটরি। ঘরের ভিতরেই সাজানো ছিল ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে দুটি জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেট থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ঘরের ভিতর রাখা ২২টি প্যাকেট থেকে আরও ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে। যার ওজন ৪৮৯ গ্রাম। এই কারখানার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।’ জানা গেছে, বড়বাড়ী এলাকার এ ঘরটি ব্যবহার করা হচ্ছিল ছোট আকারের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে। ইয়াবা তৈরির কাঁচামালের একটি অংশ আনা হতো মিয়ানমার থেকে। বাকিগুলো স্থানীয় মার্কেট থেকে সংগ্রহ করতেন তৌহিদুল। জব্দ কাঁচামাল দিয়ে অন্তত ২০ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উৎপাদন করা সম্ভব ছিল। ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল শেষ হয়ে এলে ৫০০ পিস ইয়াবা গুঁড়া মিক্সিং করে তৌহিদুল ৫ হাজার ইয়াবা বড়ি তৈরি করে ফেলতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। জব্দ করা হয়েছে ট্যাবলেট তৈরির ছাঁচ, রাসায়নিক মিশ্রণের উপকরণ, বিপুল পরিমাণ সাদা পাউডার, পলিপ্যাকেট, মোড়কজাত করার সরঞ্জাম, ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র, মোবাইল ফোন সেট ও নগদ অর্থ।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ