গোপন ক্যামেরায় স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ, উল্টো গোপনীয়তা লঙ্ঘনে জেলে স্বামী
স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই কারাগারে গেলেন তাইওয়ানের এক ব্যক্তি। রোবট ভ্যাকুয়ামের ক্যামেরা ব্যবহার করে স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করে আদালতে প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছিলেন তিনি। ওই মামলায় স্ত্রী ও তার কথিত সঙ্গীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভিডিও ধারণের অভিযোগে করা পাল্টা মামলায় স্বামীকেই কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঘটনাটি তাইওয়ানে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একদিন বাড়িতে একটি অপরিচিত টুথব্রাশ দেখতে পান। বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক মনে হলে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ তৈরি হয়। পরে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে বাড়িতে থাকা রোবট ভ্যাকুয়ামের ক্যামেরা চালু করেন তিনি।
ক্যামেরার লাইভ ভিডিওতে স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান স্বামী। পরে ওই দৃশ্য রেকর্ড করে সংরক্ষণ করেন তিনি।
এরপর ভিডিওটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে স্ত্রী ও তার কথিত সঙ্গীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ব্যক্তি। মামলার শুনানি শেষে আদালত তাদের ৫ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন, যা প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।
তবে মামলার পরিণতি স্বামীর জন্যও সুখকর হয়নি।
স্বামীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন তার স্ত্রী। অভিযোগে তিনি বলেন, তার অনুমতি ছাড়া রোবট ভ্যাকুয়ামের ক্যামেরা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করা হয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
পরে ফৌজদারি আদালত স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে রায় দেন। আদালত বলেন, বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে থাকলেও প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক থাকলেও একজনের ব্যক্তিগত মুহূর্ত অন্যজন ইচ্ছামতো গোপনে ধারণ করতে পারেন না।
এ ঘটনায় ওই স্বামীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার নিউ তাইওয়ান ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার আইনি সীমা নিয়ে। স্ত্রীর কথিত পরকীয়ার প্রমাণ আদালতে গ্রহণযোগ্য হলেও, সেই প্রমাণ সংগ্রহের পদ্ধতিই শেষ পর্যন্ত স্বামীর জন্য ফৌজদারি শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অনিয়ম বা দাম্পত্য বিরোধের প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হতে পারে।



Post Comment