চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে রাস্তায় তাড়া করে পিটিয়ে জখম

রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদা না পেয়ে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হামলায় শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যবসায়ী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে। হামলার পর সন্ত্রাসীরা সিএনজি অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, পথেরহাটে তাদের টাওয়ার নির্মাণের পর এক বছর ধরে এলাকার কিছু সন্ত্রাসী তার কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবি মেটাতে ইতোমধ্যে ৭ লাখ টাকা দেওয়া হলেও তারা নিয়মিত ফোনে হুমকি দিচ্ছিল।

তিনি আরো দাবি করেন, হামলাকারীরা বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক এমপি গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী।

শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ১৯৯৬ সালে নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয়।

আহতের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা মুন্নি বলেন, “একজন ব্যবসায়ীকে রাস্তায় এভাবে কেন মারধর করা হলো—বুঝে উঠতে পারছি না। টাকা লাগলে নিতে পারত, কিন্তু এভাবে পেটানো কেন? আমার স্বামীকে যারা মেরেছে তাদের বিচার চাই।”

তিনি জানান, হামলাকারীরা দুটি স্মার্টফোন ও ২৬ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন,  আমরা যারা রাউজানে গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী আছি, সকলেই শান্তি- শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী। আমরা ধানের শীষের রাজনীতি করি। মারামারি হানাহানিতে বিশ্বাসী নয়। তারা যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। হামলাকারীরা আমাদের কেউ নন। এসবের দায় আমরা নিব না।

নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মামুন ভুইয়া দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, মৌখিকভাবে ঘটনার বিষয়ে শুনেছি।  তবে, কেউ এখনও লিখিতভাবে অভিযোগ করে নি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ