দূযোর্গে মুজিব কিল্লাই নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভরসা

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল::


আসসালামুআলাইকুম,আমি আবদুল মোতালেব,আমার বয়স সত্তর বছর,এই মুজিব কিল্লার পাশে আমার বাড়ি,১৯৭০ সালে এই এলাকায় বন্যায় হাজার হাজার মানুষ, লক্ষ লক্ষ গবাদিপশুসহ ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো।

পরবর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব ১৯৭২ সালে মুজিব কিল্লা নির্মাণ করে দেয়ার পর পরবর্তী ৮৫,৯১,৯৮ বিভিন্ন সময়ে জড় তুফানে আমাদের ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছিলো। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব ১৯৭২—৭৩ সালে এই এলাকায় হাজার হাজার ভূমিহীন দের মধ্যে লক্ষলক্ষ একর জমি বন্দোবস্ত দেন, যে জমিতে আমরা স্থায়ীভাবে বাস করতেছি। আমরা এই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করি।

পরবর্তী ৮৫ সালে বন্যার পর আপনি এই এলাকায় এসে ছিলেন। আমার বাড়ির দক্ষিণ দিকে রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে চরক্লার্কে কেরামতপুর পর্যন্ত আপনি গিয়েছিলেন। আমি আপনার সাথে ছিলাম। সেখান থেকে এসে উপজেলার পাশে আনছার উল্যাহ মেম্বার বাড়ি গিয়ে ছিলেন আপনি বিশ্রাম নিয়েছেন। সেখানেও আমি আপনার সাথে ছিলাম। পরবর্তী আপনি মুজিব কিল্লায় যে আশ্রয়ণ কেন্দ্র নির্মাণ করে দিয়েছিলেন,এই আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আমাদের এলাকার সকল মানুষের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আমরা খুবই খুশি, সাথে একটি রাস্তা দিয়েছেন। এই রাস্তা দিয়ে আমাদের অনেক উপকার হবে।

আগামী জড় তুফান গুলোতে আপনার দেয়া মুজিব কিল্লায় আমরা আশ্রয় নিতে পারবো বলে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ,আল্লাহপাক যেন আপনাকে দীর্ঘ হায়াত দান করে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

ভিডিও কনফারেন্সে মুজিব কিল্লার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে আবেগে কথা গুলো বলেন নোয়াখালী সুবর্ণচরের সত্তরোর্ধ বাসিন্দা আবদুল মোতালেব।

দূযোর্গ কবলিত মানুষ, তাদের পরিবার ও গৃহপালিত প্রাণীর জীবন রক্ষা এবং মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের তত্ত্ববধানে নির্মিত হয়েছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দুটি মুজিব কিল্লা। এ উদ্বোধনকে ঘিরে এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার। উৎসুক মানুষ কিল্লা পেয়ে আনন্দিত।

চর আমান উল্ল্যাহ ইউনিয়নের চর দরবেশ গ্রামে ২ কোটি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৭ টাকা ও চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর কাজী মোখলেছ গ্রামে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৪ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দুটি মুজিব কিল্লা।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ দূযোর্গকালীন উপকূলীয় এলাকার মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করবে মুজিব কিল্লা। এতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এমনটাই বলছেন দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়।

নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া এবং নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এসব কিল্লা ৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের। সাধারণ কৃষি জমির চেয়ে প্রায় ১১ ফুট উঁচুতে পুরোনো মাটির এ কিল্লার ওপর নির্মিত ভবনের প্রথম ফ্লোরে ও ছাদে ৫০০ পরিবারের মানুষ একত্রে আশ্র্রয় নিতে পারবে। গবাদিপশুর জন্য ৫৫৮ বর্গমিটারের শেড রয়েছে। থাকছে বাথরুম সুবিধাসহ সুপেয় পানির ব্যবস্থা।

এ ছাড়া ভবনে থাকছে বিদ্যুৎ ও সোলার সিস্টেম সুবিধা। এতে স্বাভাবিক সময়ে এসব কিল্লায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, খেলার মাঠ ও হাট বাজার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।অল্প খরচে যেকোন সামাজিক অনুষ্ঠান করা যাবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ বলেন, মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে প্রকল্পের নির্দেশনা অনুসারে গুণগত মান ঠিক রেখে নির্মাণে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য একজন উপ—সহকারী প্রকৌশলী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি।

সুবর্ণচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম ইবনুল হাসান ইভেন বলেন, সুবর্ণচর উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়ন বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙন এলাকা। দূর্যোগঝুঁকি কমানোর জন্য বন্যাপীড়িত এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য মুজিব কিল্লা সহায়ক হবে। এছাড়া মুজিব কিল্লায় স্বাভাবিক সময়ে যে কোন কার্যক্রম পরিচালনা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান খান বলেন, এটি উপকূলীয় উপজেলা। ঘূর্ণিঝড়ে এ অঞ্চলে অনেক ক্ষতি হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প হিসেবে সুবর্ণচর উপজেলায় ২টি মুজিব কিল্লা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে চরদরবেশ বাজার কিল্লা প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। ফলে সুবিধা পাবেন সুবর্ণচরের হাজার হাজার মানুষ।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিবিদ এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাবিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকার এখন সারা বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল। উপকূলীয় অঞ্চল সুবর্ণচরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২টি মুজিব কিল্লা পেয়ে এই অঞ্চলের মানুষ খুব খুশি। এ জন্য সুবর্ণচরবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

আরো যে সকল মুজিব কিল্লা বেদখল আছে সেগুলো উদ্ধার করে ভবন নির্মাণ করে দিলে মহা দূযোর্গে মানুষের জানমাল রক্ষা পাবে বলেন মনে করেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ