নিয়মবহির্ভূত পোল্ট্রি খামারের বিষ্টার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

সুবর্ণ সময় ডেস্ক :


ইটভাটা, কল-কারখানা, গরু-ছাগল কিংবা হাঁস-মুরগির ফার্ম এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। যেখানে এ ধরনের ফার্ম লোকালয় থেকে দূরে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে এসব প্রতিষ্ঠান এখন লোকালয়ে গড়ে উঠছে। ফলে ওইসব এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন।


সুবর্ণচর উপজেলাধীন, ০৫নং চরজুবিলী ইউপি, ০৩নং ওয়ার্ড, পশ্চিম চর জুবিলী গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, আটকোপালিয়া বাজারে আল আমিন হোটেল এর মালিক আমিনুল হক তাহার বসত বাড়ীতে বিগত দেড় বছর পূর্বে হইতে ২ (দুই) টি লেয়ার ও পোল্ট্রি মুরগির খামার গড়ে তোলে। খামার ২টি তাহার বাড়ির আঙিনায় উপরে টিন সেড, চার পাশ্বে প্লাস্টিক নেটের আটকানো রয়েছে। খামারটির সংযুক্ত পূর্ব পাশে ৫ টি পরিবারের বসবাস।

যথাযত নিয়মে খামার পরিচর্যা না করা ও মুরগির বিষ্টা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে যত্রতত্র ফেলার কারণে ওই প্রতিবেশীরা মুরগির বিষ্টা দুর্গন্ধে অতিষ্ট, বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, খামারের সাথে সংযুক্ত নির্মাতা জিসান রহমানে বাড়ীর চলাচলের দরজা, তাহার চাচা/জেঠা একই বাড়ীতে ৪ পরিবার বসবাস করেন, পাশ্বে বসবাস করে আরো এক পরিবার। মুরগির বিষ্টা পরিস্কারের পানির সংযোগ আমিনুল হক তাহার বসত বাড়ীর পুকুরে করেন, এছাড়া খামারের মুরগির বিষ্টা পুকুরে পেলায় পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে ফুটন্ত গরম পানির মত বুদবুদ করতে থাকে। এতে করে পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে মশা, মাছি সৃষ্টিসহ বিভিন্ন জীবানুর সৃষ্টি হচ্ছে, সেখান থেকে রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে। প্রতিবেশিরা ও তাহাদের শিশু সন্তানরা অসুস্থ থাকছে প্রায়ই। দুর্গন্ধে টিকতে পারছে না, অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ভূক্তভোগী ৫ পরিবার।

প্রাথমিক বিদ্যালয়/কলেজ রোড, প্রতিদিন শতশত কোমল শিক্ষার্থী ও পথচারীর যাতায়াতের পথে আমিনুল হকের অবৈধ লেয়ার মুরগির খামার।

ভূক্তভোগী প্রতিবেশী শেখ আহম্মদ ও ইব্রাহীম খলিল, খামারের মালিক আমিনুল হক ও তাহার ছেলে আজিজুল হক’কে অনেক বার নিষেধ করেছেন, মুরগির বিষ্টা পুকুরে না ফেলতে ও মুরগির খামার সরিয়ে নিতে কিন্তু তাহারা কিছুই শোনেন না। বহুদিন ধরে আমিনুল হক ও তাহার ছেলে আজিজুল হক এভাবে মুরগির বিষ্টা পুকুরের পানিতে ফেলে যাচ্ছেন ও লেয়ার মুরগীর ব্যবসা করে যাচ্ছে ।

খামারের মালিক আমিনুল হকের কয়েকটি গৃহপালিত কুকুর রহিয়াছে, প্রায় সময় দেখায় কুকুর মুখে করে মরা মুরগি নিয়ে এসে অত্রতত্র পেলে যায়। মৃত লেয়ার মুরগির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ প্রতিবেশীরা, এগুলো প্রতিবেশীরা বলতে গেলেই অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন খামার মালিক আমিনুল হক ও তাহার ছেলে আজিজুল হক, তাহারা হুমকি দেয় আরো খামার করবে, পারলে যেন তাদের কিছু করে দেখায়। যেমন কথা তেমন কাজ, তাহারা চরজব্বর ডিগ্রী কলেজ, শহিদ জয়নাল আবেদীন মডেল উচ্চ বিদ্যাল, দক্ষিন চরজব্বর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়ক সংযুক্ত বিশাল একটি লেয়ার মুরগির খামার গড়ে তোলে। নতুন করে লেয়ার মুরগির খামার গড়ায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ আরো ২৫/৩০ পরিবারসহ হাজার হাজার পথচারী, কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীরা।

নির্মাতা জিসান রহমানের সুবর্ণ সময়কে বলেন, আমাদের বসত বাড়ীর দরজায় আমার বসত ঘরের সামনে, আমিনুল হক অবৈধ ভাবে লেয়ার মুরগির ২টি খামার করে বিগত দেড় বছর পূর্বে, এরপর আমিনুল হক তাহার ক্ষমতা প্রভাব দেখাতে স্কুল/কলেজ রোড সংযুক্ত বিশাল বড় নতুন খামার লেয়ার/পোল্ট্রি মুরগির গড়ে তোলে।

স্কুল, কলেজ রোড, প্রতিদিন শতশত কোমল শিক্ষার্থী ও পথচারীর যাতায়াতের পথে আমিনুল হকের অবৈধ লেয়ার মুরগির খামার।

উক্ত খামারের ফ্লোরে থাকা লেয়ার মুরগির বিষ্টার পরিস্কারের পানির আমাদের চলাচলের পথে এসে জমে থাকে, আমাদের বসত ঘরের সামনে আমিনুল হক এর বসত বাড়ীর পুকুর, উক্ত পুকুরে লেয়ার মূরগীর বিষ্টা পরিস্কারের পানির ও বিষ্টা পুকুরে পেলায় পানি নষ্ট হয়ে মশা, মাছি সৃষ্টিসহ বিভিন্ন জীবানুর সৃষ্টি হচ্ছে, সেখান থেকে রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে। এতে করে আমার দুই শিশু সন্তান, বাড়ী ছোট বড় সবাই প্রায়ই অসু্স্থ হয়ে পড়ছে। একটু বাতাস হলেই বিষ্টা দূগন্ধে ঘরে বাহিরে টিকতে পারছিনা। শিশু সন্তানের ঘরের বাহিরে আসিলে তাহারা বিষ্টা দুর্গন্ধে বুমি করে ও কান্নাকাটি করতে থাকে । এই ভয়ে আমি আমার ছোট শিশু সন্তানকে ঘরে বাহিরে বাহির করিনা। এমনকি গত রমজানেও আমরা ৫ পরিবার ৩টি মূরগীর খামারের বিষ্টা দুর্গন্ধে অনেকে বমি করেছে, রোজা রাখাটা অনেক কষ্ট হয় । আবারো ২মাস পরে রোজা শুরু হবে। একাদিকবার খামারের মালিক আমিনুল হককে মুরগির খামার সরিয়ে নেওয়ার কথা বলার পরেও তিনি আমাদের কারো কথা কর্ণপাত করিতেছে। তিনি বলে তাহার জায়গায় তিনি মুরগির খামার দিয়েছে। কারো কোন সমস্যা হলে তাহার কিছু আসে যায় না।

হারিছ বাজার যাওয়ার পাকা সড়ক ও স্কুল/কলেজ রোড সংযুক্ত আমিনুল হকের অবৈধ বিশাল বড় লেয়ার মুরগির খামার।

জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধ লেয়ার/পোল্ট্রি মুরগির খামার করে পরিবেশ দূষণ করছে। এ জন্য তারা এই গন্ধ থেকে বাঁচতে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিফতরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ