নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে উলঙ্গ মানসিক রোগী, দুর্গন্ধে নাকাল রোগী ও স্বজনরা
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর কারণে।

হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোরেই দেখা যাচ্ছে উলঙ্গ ও অসুস্থ অবস্থায় ঘোরাফেরা করছেন এক নারী, যিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার অভাবে তাঁর শরীর থেকে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক দুর্গন্ধ। ফলে হাসপাতালের পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর ও দূষিত।
রোগীরা জানান, নারীর দেহ থেকে এতটাই তীব্র গন্ধ ছড়াচ্ছে যে পাশ দিয়ে যাতায়াত করাই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক রোগী ও স্বজনেরই বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
“হাসপাতাল তো চিকিৎসা পাওয়ার জায়গা, কিন্তু এখানে এসে আমরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি,” — অভিযোগ করেন একজন রোগীর স্বজন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অনেক রোগী। রোগীদের অভিযোগ, মানসিক রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা নিরাপদ আবাসন না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধ নিয়েও। একজন অসহায়, মানসিক ভারসাম্যহীন নারী যিনি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাকে উলঙ্গ অবস্থায় অবহেলায় রেখে দেওয়া হয়েছে— বিষয়টি যেমন অমানবিক, তেমনি অব্যবস্থাপনার প্রমাণও বটে।
সচেতন মহল বলছে, এই পরিস্থিতি অবিলম্বে সমাধান করা জরুরি। রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, উক্ত নারীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করতে হবে।



Post Comment