নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে খাবার-সেবায় চরম অনিয়ম, দুর্নীতির ছড়াছড়ি!
নোয়াখালী প্রতিনিধ :
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা চরম দুর্ভোগ ও অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সেবা ও খাবার সংক্রান্ত অনিয়ম, দুর্নীতি, নিরাপত্তার অভাব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ— সব মিলিয়ে রোগীদের জীবন যেন আরও বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।
নাস্তা সরবরাহে ঘাটতি ও নিম্নমানের খাবার
রোগীদের অভিযোগ, প্রতিদিন সকালেই নাস্তার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় দীর্ঘসময়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ার আগে নাস্তা দরকার হলেও তা দেওয়া হয় সকাল ১১টা বা তারও পরে। আজও সকাল ১১টার পর বিতরণ করা হয় একটি প্যাকেট— যাতে ছিল দুইটি রুটি, একটি কলা ও একটি ফার্মের ডিম। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুটির মান এতটাই খারাপ ছিল যে তা রাবারের মতো; যা খাওয়া একেবারেই অনুপযোগী।
নাস্তার রুটি সরবরাহ করছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান “মিয়া ফুড”, দত্তের হাট, নোয়াখালী (বিডিএস-৩৮২)। তবে প্যাকেটের গায়ে ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ, ওজন ও মূল্য সংক্রান্ত কোনো তথ্য ছিল না— যা একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আইনি লঙ্ঘন।
বেলা গড়িয়ে আসে দুপুরের খাবার
দুপুর ও রাতের খাবারও নিয়মিত বিলম্বে সরবরাহ করা হয়। দুপুরের খাবার অনেক সময় বিকেল আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে রোগীরা হাতে পান। খাদ্যে অতিরিক্ত তেল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা চিকিৎসকদের পরামর্শের পরিপন্থী।
কার্ডিওলজি বিভাগের রোগীরা সবচেয়ে ভুক্তভোগী
সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা হাসপাতালের ৪র্থ তলার কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরাও খাবার সংগ্রহের জন্য নিচে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হন। অনেকে সময়মতো খাবার না পেলে না খেয়ে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকা দিলে খাবার সহজে পাওয়া যায়, না দিলে অপেক্ষা বা বঞ্চনার শিকার হতে হয়।
নিরাপত্তাহীনতায় চুরি-ছিনতাই বেড়েছে
হাসপাতালে নেই কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিদিন রোগী ও স্বজনদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা, এমনকি স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীদের উদাসীনতা ও দায় এড়ানোর প্রবণতা চোখে পড়ছে।
ওয়ার্ড বয়দের দৌরাত্ম্য ও ঘুষ বাণিজ্য
ওয়ার্ড বয়দের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। তারা টাকা ছাড়া সিট বরাদ্দ বা পরিবর্তন করেন না। টাকা দিলে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা ‘ভিআইপি সার্ভিস’ নামে সরবরাহ করা হয়। রোগী ছাড়পত্র পাওয়ার পরও টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখার ঘটনা নতুন নয়।
অপরিচ্ছন্নতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি
রোগীদের বেডের পাশে থাকা বাক্সগুলো অপরিচ্ছন্ন এবং পোকামাকড়ে ভরা। ওয়ার্ড ও ওয়াশরুমের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় রোগীরা নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন। নেই কোনো গোসলের সু-ব্যবস্থা।
দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
এই চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির পরিবেশে রোগীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন সংগঠন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সুবর্ণ সময় : জিসান রহমান



Post Comment