ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ে গেছে ৪২ হাজার একর এলাকা

৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে ফ্রান্স। যা প্যারিস শহরের চেয়েও বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তা এখনও পুরোপুরি
নেভেনি—আগামী কয়েকদিন ধরে তা জ্বলতেই থাকবে, যদিও বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে শুক্রবার ভোরে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অড অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দুই হাজারেরও বেশি দমকলকর্মী ও পাঁচশোর বেশি অগ্নিনির্বাপক যানবাহন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সেনাবাহিনী ও জাতীয় পুলিশ সদস্যরাও। মঙ্গলবার রিবোত গ্রামের পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এ পর্যন্ত একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনই দমকলকর্মী। দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

“আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে,”—ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে জানান অড প্রশাসনের সেক্রেটারি জেনারেল লুসি রোয়েশ। তবে পুরোপুরি নিভে যেতে এখনও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অডের প্রিফেক্ট ক্রিশ্চিয়ান পুজে। তার ভাষায়, “এখনও অনেক কাজ বাকি।”

বিবিসি বলছে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পানি ছোড়ার বিশেষ বিমান। ইতিমধ্যেই আগুনে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে— যা প্রায় ৪২ হাজার একরের সমান।

আগুনে ধ্বংসপ্রাপ্ত বনাঞ্চলে জনসাধারণের প্রবেশ অন্তত রবিবার পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ, সেসব এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়েছে এবং এখনো বহু ঝুঁকি রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে বিশাল এলাকা জুড়ে পোড়া ভূমি এবং ঘন ধোঁয়ার চিত্র ধরা পড়ে, যা ভয়াবহতার প্রকৃত মাত্রা তুলে ধরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখনো অনেক বাসিন্দাকে তাদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়নি। তাদের জন্য ১৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

কর্বিয়ের অঞ্চলের একাধিক গ্রামে এখনও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, এটি ১৯৪৯ সালের পর থেকে দেশটির সবচেয়ে বড় দাবানল। প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রু একে “অভূতপূর্ব একটি বিপর্যয়” বলে অভিহিত করেছেন।

বুধবার অড অঞ্চলে পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বায়রু বলেন, এই দাবানলের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘদিনের খরার সরাসরি প্রভাব রয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী অ্যাগনেস প্যানিয়ে-রুনাচারও দাবানলকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে মন্তব্য করেছেন।

দাবানলের ভয়াবহ বিস্তারের জন্য দায়ী করা হচ্ছে প্রবল বাতাস, শুকনো গাছপালা এবং প্রচণ্ড গরমকে।

জোনকিয়েরগ্রামের মেয়র জাক পিরো জানান, তার গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা পুড়ে গেছে। লে মোঁদে পত্রিকাকে তিনি বলেন, “অবস্থা ভয়াবহ। চারপাশ যেন পুড়ে যাওয়া ছাইয়ের রাজ্য। গাছগুলো সম্পূর্ণভাবে দগ্ধ।”

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক বিবৃতিতে জানান, “এই দুর্যোগ মোকাবেলায় রাষ্ট্রের সব সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি নাগরিকদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। সূত্র: বিবিসি

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ