সুবর্ণচরে ভুয়া এনজিও বাড়ির মালিকের সহযোগিতায় প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও

আবদুল জব্বার, সুবর্ণচর(নোয়াখালী) প্রতিনিধি।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা নামক ভুয়া এনজিও’র পরিচয়ে একটি প্রতারক চক্র গ্রামের সহজ-সরল মানুষ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আর এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও, যিনি প্রতারণাকারীদের অফিস স্থাপনে সহায়তা করেছিলেন।

ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের ঋণের টাকা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টায় ভুক্তভোগীরা সুবর্ণচরের চরবাটা খাসেরহাট এলাকার ওজিফা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নতুন ভাড়া নেওয়া অফিসে গেলে দেখতে পান অফিসটি তালাবদ্ধ। যেখানে একদিন আগেও সাইনবোর্ড দেখিয়ে অফিসের ঠিকানা নিশ্চিত করা হয়েছিল, সেখানে এখন কোনো ঋণ প্রদানের কার্যক্রমের চিহ্নমাত্র নেই। সন্দেহ হওয়ায় গ্রাহকরা প্রতারকদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল করলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে নিশ্চিত হয় যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে।

খবর পেয়ে আরও ভুক্তভোগী সেখানে জড়ো হয় এবং পুলিশে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। ক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির মালিক মাইনুদ্দিনকে দায়ী করে অভিযোগ জানালে তিনি জানান, “আমার নতুন ভবনটি অফিস হিসেবে ভাড়া নিতে গতকাল কয়েকজন লোক এসেছিল এবং আজকেই ভাড়ার চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। তারা যে প্রতারক, তা আমি জানতাম না।
বাড়ির মালিকের কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া কাগজপত্র চাইলে তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

পুলিশ তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করলে ভেতরে কয়েকটি টেবিল-চেয়ার, ফাঁকা রেজিস্টার খাতা এবং কিছু ফাইল ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। এতে স্পষ্ট হয়, প্রতারক চক্র সুপরিকল্পিতভাবে গ্রামবাসীদের ধোঁকা দিয়েছে। আর ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রতারক চক্রের সাথে বাড়ির মালিকের সম্পৃক্ততা আছে।

ভুক্তভোগীদের করুণ অভিজ্ঞতা
চর জুবলি ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রতারিত গ্রাহক তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন,
নুরবানু: “আমাকে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫৫ হাজার টাকা নিয়েছে।”
হাসিনা আক্তার: “সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে ৪২ হাজার টাকা নিয়েছে।”
আলেয়া আক্তার: “আজ সকাল ১০টায় আমার কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা নিয়ে বলেছিল, আজকেই লোন দেবে।”
মো. খলিল: “গতকাল বলেছিল, আজ টাকা দেওয়া হবে। সকালে এসে দেখি অফিসে ৭-৮ জন লোক আছে, বাইরে প্যান্ডেল বাঁধা হচ্ছে, সবাইকে আপ্যায়নের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এসব দেখে আমিও ১১ হাজার টাকা জমা দিই।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতারক চক্র প্রায় দুই শতাধিক মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

চর জব্বার থানার ওসি মো. শাহীন মিয়া জানান, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং প্রতারক চক্রটিকে ধরতে তদন্ত শুরু করেছে। জনগণকে প্রতারণা থেকে বাঁচতে আর্থিক লেনদেনের সময় সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ