সুবর্ণচরে লোডশেডিংয়ে জন দুর্ভোগ চরমে
মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল,
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতা তীব্র বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে এ উপজেলার ব্যবসা—বাণিজ্য ও স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনে ১৬—১৭ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এনিয়ে সুবর্ণচরের বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক লেখা পোস্ট করেন।কেউ কেউ বিদ্যুত অফিস ঘেরাওসহ লাগাতার আন্দোলনের হুমকি দেন।
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতি সুবর্ণচর কার্যালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সুবর্ণচর উপজেলায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক মিলিয়ে মোট ৭৩ হাজার ৮শ চব্বিশ জন গ্রাহক আছেন। এর মধ্যে সুবর্ণচরে ৫৮ হাজার ৫০০ ও হাতিয়া উপজেলায় উত্তর অংশে সুবর্ণচরের সাথে ১৫ হাজার ৩ শ চব্বিশ গ্রাহক। এ উপজেলায় দিনে ১০ ও রাতে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা আছে। কিন্তু সরবরাহ শ্তভাগ ।
সুবর্ণচর পল্লী বিদ্যুত কার্যালয় সূত্র মতে, এ উপজেলার বিদ্যুত সরবরাহের প্রধান লাইন সর্বোচ্চ ৩৩ মেগাওয়াট লোড সহনীয়। অথচ এখানে প্রয়োজন ২৫ মেগাওয়াট লোডের তার। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুত সরবরাহের প্রধান লাইন আধুনিকায়ন করা হলেও এ অঞ্চলে ৩৫ বছরের পুরনো ৩৩ কেবি ব্যবহার হচ্ছে। তার ওপর এ লাইন বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড, নোয়াখালীও (পিডিবি বা ওয়াপদা) ব্যবহার করছে। ভুক্তভোগীরা জানান, চৈত্রের শুরু থেকেই সুবর্ণচরে ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। গ্রীষ্মের তাপদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বাড়তে থাকে। জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার পরেও রাতে পড়তে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দারুণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসা—বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা সৈকত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থী তিশা দাস বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে দিনরাত অসহনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়। লেখাপড়ায় চরম ব্যাঘাত ঘটে। একবার বিদ্যুত এলে সর্বোচ্চ ১০—১৫ মিনিট স্থায়ী হয়।
উপজেলার চর ওয়াপদা বাজারের ব্যবসায়ী আবুল খায়ের বলেন, গত শুক্রবার তার দোকানের ফ্রিজে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকার আইসক্রিম নষ্ট হয়েছে।
বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কথা অস্বীকার করলেন নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির সুবর্ণচর শাখার সহব্যবস্থাপক ফছি উদ্দিন । তিনি বলেন, উপজেলায় ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা আছে।এর মধ্যে গড় চাহিদা ৮.৫ মেগাওয়াট।সুবর্ণচরের পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের আওতায় ৫৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে গাছপালার কারণে কোন কোন এলাকায় সাময়িক বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।সেটাকে লোডশেডিং বলা যাবে না।



Post Comment