সুবর্ণচরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮-১৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না, তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

মনজু মহসিন ,বিশেষ প্রতিনিধি:


একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দুর্ভোগ বেড়েছে বাসিন্দাদের। দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৫-৬ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে ও ১৮-১৯ ঘন্টা থাকে না। দিনে ১২ ঘন্টার মধ্যে ৪ ঘন্টা থাকে এবং রাতের ১২ঘন্টার মধ্যে ২ঘন্টা থাকে আর বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকায় নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে। লোডশেডিংয়ের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পড়াশুনা আর লোকসান হচ্চে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এমন পরিস্থিতিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে জনমনে।

সুবর্ণচরের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিন জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭-৯টা পর্যন্ত রাত ৯.৩০-১১টা রাত ১২টা থেকে ৩টা, ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা-সাড়ে নয়টা,১১টা থেকে-১২টা,পৌনে ১টা থেকে আড়াইটা,সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা, ৫টা থেকে এই রিপোর্ট লেখার সময়ও বিদ্যুৎ ছিল না।

চরজব্বার ইউনিয়নের বাসিন্দা মহসিন জানান, তিনি ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি। সারাদিন কাজ করার পর যখন রাতে বাসায় ফিরে স্বস্তিতে ঘুমানোর জন্য তখনই বিদ্যুৎ থাকে না । ঘুম না হওয়ায় সারাদিন খিটখিটে মেজাজ নিয়ে কাজ করতে হয়। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করতে হয় । মোবাইল চার্জ দিতে না পারলে কাজে বিঘ্ন ঘটে।

তবে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় এক তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্যহয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।


জড়বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ আষাঢ়ের প্রথমেই যখন তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন, তখনই ভয়াবহ বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কবলে সুবর্ণচরবাসী। গেলো ১৫ দিন ধরে এ লোডশেডিংয়ের ব্যাপকতা বেড়েছে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে। তীব্র অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আবদুল বারী বাবলু বলেন, অব্যাহত এ লোডশেডিংয়ের কারণে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও হাঁসফাঁস হয়ে উঠেছে তীব্র লোডশেডিংএ। বিদ্যুৎ না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

সুবর্ণচর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনের ২৪ ঘন্টায় গড়ে ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পান না তারা। কিছুক্ষণের জন্য এলেও আবার চলে যায়। মাত্রাতিরিক্ত গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুবর্ণচরে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা রয়েছেন দেড় লাখ। এসব গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৩১ মেগাওয়ার্ড। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৯-১০ মেগাওয়ার্ড।

সুবর্ণচর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. ফসিউল হক জাহাঙ্গীর জানান, তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে ৩১ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১০ মেগাওয়ার্ড। কখনও কখনও তার চেয়েও কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে লোডশেডিং এর পরিমাণ বেড়েছে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ