হাতিয়ার ৪ নম্বর স্টিমার ঘাট সেতু ও ভূঁইয়ারহাট ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ, বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা
প্রতিনিধি, সুবর্ণচর (নোয়াখালী):
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৪ নম্বর স্টিমার ঘাট সেতু এবং সোনাপুর-টু-চেয়ারম্যানঘাট সড়কের ভূঁইয়ারহাট ব্রিজ—দুই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, হাতিয়ার ৪ নম্বর স্টিমার ঘাট সেতুর বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতুটির ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ২০টির বেশি পিয়ারে ফাটল থাকায় এটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের বসবাস এই দ্বীপে, যেখানে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ফেরি যোগাযোগ চালু হওয়ায় সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এতে সেতুটির ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সেতুটি অকেজো হয়ে পড়লে ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এ অবস্থায় সড়ক বিভাগ ৫ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে ২০ থেকে ৩০ টন ওজনের ভারী যানবাহনও সেতুটি ব্যবহার করছে। গ্রামপুলিশ সদস্যরা জানান, ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
অন্যদিকে, সোনাপুর-টু-হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট সড়কের ভূঁইয়ারহাট ব্রিজও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। আগামী **০২ এপ্রিল ২০২৬** থেকে ছোট ও হালকা যানবাহন ছাড়া সকল ভারী যানবাহনকে ব্রিজটি এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে।
বিকল্প সড়ক হিসেবে ভুঞীরহাট বাজার থেকে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাঁশখালী সুইচ গেইট, দরবেশ বাজার, জলিল কমান্ডারের বাজার ও মোহাম্মদ আলী বাজার হয়ে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিপরীত দিক থেকেও এই রুট ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়েই এসব সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
নোয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের একটি দল সেতুটি পরিদর্শন করেছে। ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর দরপত্রের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এসময় তিনি জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের আহ্বান জানান।
হাতিয়াবাসীর দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর দ্রুত সংস্কার, নতুন সেতু নির্মাণ এবং ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।



Post Comment