সুবর্ণচরে হাতপা বেঁধে গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা আটক ৪
সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
সুবর্ণচরে হাত-পা বেঁধে ৩ সন্তানের জননী শারমিন আক্তার (৩০)কে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে হাতপা বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও গতকাল রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ রাতেই ভিকটিম ও অভিযুক্তদের আটক করে। আটকৃতদের মধ্যে স্বামী, বাসুর, ননদ ও বাসুরের ছেলে রয়েছে।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
আটকৃতরা হলেন : ভিকটিমের স্বামী নুর নবী (৩৫), শেখ ফরিদ (৪০), বিবি কুলছুম (৩৭), মোঃ হাসান (২০)।
জানাযায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব চরবটা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চরমজিদ গ্রামের আব্দুল হাদির বাড়িতে ভিকটিমের শশুর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ১২ বছর আগে পারিবারিক ভাবে একই ওয়ার্ডের নূর নবীর সাথে তার বিয়ে হয়। স্বামী শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় ভিকটিম বিভিন্ন বাসাবাড়ি কাজ করে ও প্রতিবন্ধী স্বামীর সংসার করছেন। তার এক মেয়ের হার্টের সমস্যা থাকায় ৫০ হাজার টাকা দরকার ছিল। এজন্য স্থানীয় কয়েকটি বাজারে ভিক্ষা করে ১৫ হাজার টাকা জোগাড় করে ভিকটিম। মাঝে মাঝে বাড়ি ফিরতে দেরী হলে স্বামী পর পুরুষের সাথে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে প্রায় গালমন্দ করত। এভাবে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে কিছু দিন আগে কাজের সন্ধ্যানে আমি ঢাকা চলে যাই। পরে স্বামীর পরিবারের লোকজনের কথায় পুনরায় ফিরে আসি। ফিরে আসলে ১৩ সেপ্টেবর শুক্রবার রাতে শ্বশুর বাড়ির পাশের বেলাল সওদাগর নামে এক ব্যক্তি ভরসা দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে প্রথমে তিনি আমার সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন। এরপর ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বশুর আব্দুল হাদি, জা কুলসুমা, নার্গিস, ভাসুরের ছেলে শেখ ফরিদ, হাসান, ভাগনে রাসেল, স্বামী নুর নবীও তার বোন ছাহেরা খাতুন আমার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায়। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে আমাকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত স্বামী নুর নবী জানান, আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে আমার অবাধ্য। সেই কিছুদিন পর পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। কিছুদিন পর আবার ফিরে আসে। সামাজিকভাবে আমরা মুখ দেখাতে পারছি। এ নিয়ে তাকে বকা দিলে যে আত্মহত্যা করতে যায়। তখন আমি নিরুপায় হয়ে বৃদ্ধ বাবার সাহায্যে নিয়ে তাকে বেঁধে তার পরিবারের লোকদের খবর দেই। তারা এসে ভিডিওটি করে ঘটনার একমাস পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ঘটনাটি আমরা পারিবারিক সামাজিকভাবে মিমাংসা করেছিলাম।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলম ভূঁইয়া বলেন, গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্তদের রাতেই আটক করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
https://youtu.be/L4FXM27KvTo?si=4JBBM2Y_YeazfbDy



Post Comment