সুবর্ণচরে ব্যবসায়ীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ
সুবর্ণচর প্রতিনিধি ::
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাড়িতে যাওয়ার গতিপথ রোধ করে ইসমাইল নামের এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করে হাত পায়ের রগ কেটে দিয়েছে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। আহত ব্যবসায়ী সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের ভুমিহীন নেতা মৃত শফি মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে মো. ইসমাইল তারাবির নামাজের পর দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার পথে উপজেলার দরবেশ বাজারের পর্যন্ত আসলে চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আজু মেম্বারের ছেলে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী জয়নাল এবং তার বাহিনীর সদস্যরা বাজারের উপর প্রকাশ্যে ইসমাইলের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে।
এসময় জয়নালের ভাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাবুল, কামাল, সাহেদ ও একই এলাকার ওবায়দুল হক অধুর ছেলে ডাকাত দলের সদস্য কোবা কামাল, কোবা জামাল, কোবা সেলিম ও কোবা বেলাল ইসমাইলের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয় এবং ইট দিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত করে। খবর পেয়ে ইসমাঈলের স্ত্রী স্বামীকে বাঁচাতে ছুঁটে আসলে তাকেও যৌন হয়রানীসহ মাইর ধইর করা হয়।
পরে মৃত ভেবে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে গেলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহত ইসমাইলের ভাই মাইন উদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
রবিবার (১৮ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, পুর্ব শত্রুতা এবং চাঁদার দাবিতে জয়নাল বাহিনী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন জানিয়েছে স্থানীয় জয়নাল বাহিনীর তান্ডবে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে বর্তমান সরকার দলীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে হয়রানি মুলক মামলা হামলা দেয় এমনকি প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনাও ঘটায় তারা। এছাড়াও প্রতিবাদ করেছে এমন পরিবারের মেয়ে এবং নারীদের যৌন নির্যাতনের চিত্র বর্ণনা করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে স্বামীকে গলা কটে হত্যা, ডাকাতিতে বাঁধা দেয়ায় ব্যবসায়ীকে টুকরো করে হত্যা, প্রকাশ্যে রাস্তার উপর থেকে কিশোরীকে তুলে নেয়া এবং অপহরনের অভিযোগসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।এবিষয়ে তারা চরজব্বার থানায় একাধিক এজাহার দায়ের করলেও সন্ত্রাসীরা আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গ্রেফতারের পর আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে আবার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে।
আপন ভগ্নিপতিকেও হত্যার অভিযোগ রয়েছে বাবুলের বিরুদ্ধে ৷ এমনকি আপন মাকে নির্যাতনের পরও তার বাবা বর্তমান মেম্বারসহ এলাকার কেউ ভয়ে মুখ খুলেনা৷ জয়নাল ও বাবুলের বিরুদ্ধে ২টি খুনের মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে। যারমধ্যে জিআর মামলা নং ৫৬০/২০১৭(খুনের মামলা), জিআর ৩৬/২০১৯ (হত্যার উদ্যেশ্য হামলা) এবং সিআর১৮১/২০১৩ মামলার নথি পাওয়া গেছে।
ছেলেদের এমন অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিবেদক আজু মেম্বারের সাথে মুঠো ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাকে সমাজে ছোট করতে প্রতিপক্ষের কৌশল মাত্র।
তবে এর সত্যতা মিলেছে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ থেকে৷ তিনি জানান, আজু মেম্বারের ছেলে বাবুলের বিরুদ্ধে তার ভগ্নীপতিকে খুনের অভিযোগে একটি হত্যা মামলাসহ ৩/৪ টি মামলা রয়েছে৷ এরা কেউ বিচার শালিস মানেনা, এধরনের মারধরের বিষয়ে একাধিকবার থানায় বিচার শালিস হয়েছে।
চরজব্বার থানার ওসি জিয়াউল হক প্রতিবেদককে জানান, ভুক্তভোগিরা থানায় অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও পূর্বে একাধিকবার অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।



Post Comment